• সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    http://bongshaiit.com/

    দৌলতপুরে সরকারী জমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা

    দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি | ২২ ডিসেম্বর ২০২০ | ৫:১২ অপরাহ্ণ

    দৌলতপুরে সরকারী জমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা

    ছবির ক্যাপশন: সোনাইকান্দি গ্রামে সরকারী জমিতে গড়ে উঠা অবৈধ ইটভাটা।

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারী খাস জমিতে ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করার চার বছর অতিক্রান্ত হলেও অদ্যবধি কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

    জানাযায়, উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের ৭৮ নং সোনাইকান্দি মৌজার ৮৮ ও ১ নং খতিয়ানভুক্ত ১৩১, ২৬৩ ও ২৬৭ দাগের ৬ একর ৫৬ শতাংশ জমির উপর নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী ৮ বছর পুর্বে ২০১২ সালের দিকে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করেছে। জনবহুল এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে অবৈধভাবে স্থাপন করা সরকারী জমিতে ইটভাটা উচ্ছেদ করে সরকারী জমি উদ্ধারের জন্য আব্দুল জলিল খান ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক এর নিকট আবেদন করে। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারী সম্পত্তিতে ইটভাটা স্থাপন করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ০০.০০০.৫০০০.০০৫.৪৭.০২৬.১৬-৬৯ (যুক্ত) স্বারকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোঃ মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত সোনাইকান্দি মৌজার ৮৮ খতিয়ানের ১৩১,২৬৩, ও ২৬৭ দাগের ৬ একর ৫৬ শতাংশ জমির মধ্যে ৩ একর ২২ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি সরকারী দখল গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। এবং ঐ অর্পিত সম্পত্তি দখল গ্রহণ নিশ্চিত পুর্বক ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অদ্যবধি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ ও সরকারী জমি উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী আব্দুল জলিল খান জানান, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ইটভাটা মালিক নজরুল ইসলাম জানান, ঐ জমির মালিকানা দাবী করা রিফাইতপুর গ্রামের মৃত দিয়াতুল্লাহ সরকারের ছেলে গিয়াস উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে তিনি লিজ নিয়েছেন। এবং এই জমি নিয়ে গিয়াস উদ্দিন সরকার ২০১৩ সালে হাইকোর্টে ৫২৭৭/২০১৩  রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। যে রিটের কারণে ঐ জমিতে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ ছিল। এলাকাবাসী জানায়, ভুমিদস্যু সু-চতুর গিয়াস উদ্দিন সরকার দীর্ঘ চার বছরেও ঐ রিট পিটিশন টি নিস্পত্তি না করে পুনঃরায় গত ১৭ এপ্রিল ২০১৭ইং তারিখে স্বাক্ষরিত ৫২৭৭/২০১৩ রিট পিটিশনের একটি কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রেরণ করেছে। যার সময়সীমা গত ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখে শেষ হয়েছে বলে জানাগেছে। এলাকাবাসী আরো জানায়, ২০১২ সালে ঐ সরকারী খাস জমিতে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ও এফএম বেতার ষ্টেশন তৈরীর জন্য তৎকালীন সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পেশ করলে তা প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরপর ভুমিদস্যু গিয়াস উদ্দিন সরকার তা বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করেন। এরিমধ্যে রহস্যজনকভাবে সেই জমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে ওঠায় এলাকাবাসী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, ঐ সরকারী সম্পত্তি নিয়ে আদলতে মামলা ছিল বিধায় কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তবে, লোকালয়ে ইটভাটা স্থাপন করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

     

     

    আপনার মতামত দিন

    বাংলাদেশ সময়: ৫:১২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২০

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
    advertisement